বয়স বাড়ছে ঠিকই, কিন্তু জেমস অ্যান্ডারসনের পারফরম্যান্সে পড়ছে না এর কোনো ছাপ। উল্টো যেন আরও ধারাল হচ্ছে তার বোলিং। ৪০ বছর এসেও যেন ‘চিরতরুণ’ তিনি। কেবল কী তাই! এই বয়সে টেস্ট র্যাঙ্কিংয়ের এক নম্বর বোলারও ইংলিশ এই পেসার। তার এই অর্জনে মোটেও অবাক নন রবি শাস্ত্রী। ভারতের সাবেক কোচ ও ক্রিকেটারের মতে, ফিটনেসের পাশাপাশি প্রস্তুতিতে সর্বোচ্চটা দিয়ে এতটা সফল অ্যান্ডারসন।
নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে মাউন্ট মঙ্গানুই টেস্টে বল হাতে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে বুধবার প্রকাশিত র্যাঙ্কিংয়ের হালনাগাদে চূড়ায় ওঠেন অ্যান্ডারসন। কিউইদের ২৬৭ রানে হারানোর ম্যাচে ৭ উইকেট নেন তিনি।
এ নিয়ে ষষ্ঠবারের মতো তালিকায় সবার ওপরে উঠলেন অ্যান্ডারসন। ২০০৩ সালে এই সংস্করণে অভিষেকের পর ২০১৬ সালে প্রথমবার শীর্ষে ওঠেন তিনি। সবশেষ এক নম্বরে ছিলেন ২০১৮ সালে।
৪০ বছর ২০৭ দিন বয়সে র্যাঙ্কিংয়ে শীর্ষে ওঠে একটি কীর্তিও গড়েন অ্যান্ডারসন। ১৯৩৬ সালে অস্ট্রেলিয়ার সাবেক লেগ স্পিনার ক্ল্যারি গ্রিমেটের পর সবচেয়ে বেশি বয়সে চূড়ায় ওঠা বোলার তিনি।
আইসিসি রিভিউ-তে সম্প্রতি অ্যান্ডারসনের এই সাফল্য নিয়ে কথা শাস্ত্রী। তার মতে, সর্বদা নিজের সেরাটা নিশ্চিত করতে কঠোর পরিশ্রম করেন ইংলিশ পেসার। অনুশীলনেও শতভাগ দিয়ে নিজেকে বাকিদের থেকে আলাদা রেখেছেন তিনি।
“সে হয়তো মোটে ২০ থেকে ২৫ বল করত। কিন্তু প্রতিটি বল সে তার সর্বোচ্চটা দিত। মাঝে মাঝে আমি আমার ফাস্ট বোলারদের বলতাম, ‘স্রেফ একে দেখ। তার পেশাদারিত্ব, ওয়ার্ক এথিকস দেখ।”
অ্যান্ডারসনের পেশাদারিত্বে মুগ্ধ শাস্ত্রী। এই বয়সেও যেভাবে পারফর্ম করে যাচ্ছেন ইংলিশ পেসার, তাকে স্যালুট না জানিয়ে পারলেন না ভারতের সাবেক এই অলরাউন্ডার।
“এটাই হলো সত্যিকার অর্থের পেশাদারিত্ব। ফিটনেসের প্রতি জোর দেওয়া। ৪০ বছর বয়সে কেউ খেলতে পারবে না এবং এই ধরনের সাফল্য পাবে না, যদি না সে সর্বোচ্চ ফিট হয়। তাকে টুপি খোলা অভিনন্দন। আমাকে বলতেই হবে, দারুণ কাজ করেছ জিমি। সে একজন আদর্শ, অনেকের অনুপ্রেরণা। ৪০ বছর বয়সে কয়জন ব্যাটসম্যানই বা খেলতে পারে, সেখানে একজন ফাস্ট বোলার এই বয়সে খেলছে। তোমাকে কেবল স্যালুট।”
সর্বকালের সেরা পেসারদের একজন হিসেবে এরই মধ্যে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন অ্যান্ডারসন। পরিসংখ্যানই তার হয়ে কথা বলে। টেস্টে ৬৮২ উইকেট ডানহাতি এই পেসারের নামের পাশে। এই সংস্করণে তার চেয়ে বেশি উইকেট নেই আর কোনো পেসারের। আর সব মিলিয়ে তার ওপরে আছে আর কেবল শ্রীলঙ্কার মুত্তিয়া মুরালিধরন (৮০০) ও শেন ওয়ার্ন (৭০৮)।

0 মন্তব্যসমূহ